ইসলামের দৃষ্টিতে ধর্মিয় জ্ঞান অর্জনের গুরত্ব এবং মাদরাসায় না গিয়ে এই জ্ঞান আয়ত্ব করার উপায়!


মুসলিম জাতীর একটি বিরাট অংশ এখনো দৃয়তার সঙ্গে বিশ্বাস করে ধর্মের পাশাপাশি ইসলাম একটি বিশ্বজনীন জীবন দর্শন। বিশ্বস্রষ্টা থেকে আগত এই পবিত্র জীবন দর্শন জাহেলিয়াতের অসংখ্য প্রাচির ভেঙ্গে সমগ্র বিশ্বের আনাচে কানাচে এখন তার বিচরন অথচ এই দর্শনের আগমন ঘটেছিল এক সংকির্ণ পাহাড়ের গুহায় ! এই পবিত্র জীবন দর্শনের কন্টরোধ করার জন্য বিগত দেরহাজার বৎসর যাবত হতভাগ্য মুসলিম ও অমুসলিম সমপ্রদায়ের পক্ষ থেকে কত ষরযন্ত্রই না হয়েছে কিন্তু এই সমস্ত ষরযন্ত্রে ইসলামী জীবন দর্শনের কিছুটা ক্ষতি হলেও সামগ্রিক বিচারে এর কোনই ক্ষতি হয়নি। দিন দিন এর প্রচার প্রসার এবং এই দর্শনের দিকে অমুসলিম সমপ্রদায়ের আগমন কোন অংশেই কম নয়। প্রাশ্চাত্যের মিডিয়াগুলোই এখন বলছে ইউরোপ আমেরিকার শিক্ষিত এবং উচ্চ শিক্ষিত তরুন তরুনীদের মধ্যে ইসলাম গ্রহনের বিষয়টি লক্ষ্য করার মত ! আজ থেকে একশত বৎসর পূর্বে আমেরিকা ও বৃটেনে মসজিদ মাদসারা ছিল ৫০ থেকে আনুমানিক ১০০ টি অথচ এখন মসজিদ মাদসারা এই দুইটি রাষ্টেই কমপক্ষে দশহাজার ! দুইটি রাষ্টে যদি এই প্রভাব হয় তা হলে সমগ্র বিশ্বে এই পবিত্র দর্শনের প্রভাব কত গভির সেটা আল্লাহপাক ভাল জানেন। এ সবই হয়েছে কতিপয় ত্যাগী মুসলিমের প্রচেষ্টা ও অধ্যবসায় থেকে কারন সব মুসলিমের চিন্তা চেতনা যদি শুধু নিজেদের এবাদত বন্দেগীর মধ্যে সীমাবদ্ধ হত তা হলে সমগ্র বিশ্বের আনাচে কানাচে মসজিদ মাদসারা প্রতিষ্টিত হত না এবং সমগ্র বিশ্বে এই পবিত্র ধর্ম এতটা প্রসারিত হত না। এর দ্ধারা প্রমানিত হয় প্রতি যুগেই কিছু দায়ী মানব সমপ্রদায়ের নিকট এর মর্মবাণী পৌছিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেছে আর যুগে যুগে ইসলাম প্রচার প্রসার ও এর প্রতিষ্টার দায়িত্ব যারা পালন করেছে তারাই সত্যিকার অর্থে পালনকর্তার প্রতিনিধিত্বের আসনে অধিষ্টিত হতে পেরেছে ! বস্তুত মনোজগতে স্রষ্টার প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ববোধ তখনই জাগ্রত হয় যখন একজন মুসলিম ইহা অনুধাবন করে যে, বিশ্বস্রষ্টা তার অসীম করুনায় শেষনবীকে পাঠিয়েছেন সমগ্র মানবগোষ্টির হেদায়েতের পূর্নতার লক্ষ্যে, আর হেদায়েতের এই পূর্নতা যথাযথভাবে ধর্মিয় জ্ঞান অর্জন এবং এর অনুসরনের মধ্যেই নিহীত আছে, ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে এই দুইটি বস্তু ব্যতিত হেদায়েতের তৃতীয় কোন সুত্র নেই। মুসলিম উম্মাহ যখন থেকে প্রথমটিকে (ধর্মিয় জ্ঞান) পরিত্যাগ করে দ্বিতীয়টিকে (স্রষ্টার আনুগত্যে) গ্রহন করতে শুরু করেছে তখন থেকেই বড় বড় ফেতনা বা বিপর্যয় মুসলিম সমাজকে ঘিরে ফেলেছে, সেই সমস্ত ফেতনার মধ্যে অন্যতম ছিল মুসলিম জাতীর এই ধর্মিয় অজ্ঞতার সুযোগে প্রত্যেক জনপদে কতিপয় মুর্খ পীর বা সাধক কতর্ৃক মুসলমানদের ইমান সিনতাই করা !
মুসলিম জাতীর মধ্যে হতে একটি বিরাট অংশ এই সমস্ত পীর বা সাধকদের হাতে বাইয়াত হয়েছে যেন তারা সহজেই বিচার দিবষে মুক্তি পেতে পারে ! অথচ এই সমস্ত বিশ্বাস ইমানের জন্য মুটেও নিরাপদ নয় তবে হক্কানী পীর এই সমালোচনা থেকে মুক্ত যদি তারা কুরআন সুন্নাহ থেকে মুরিদদের দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকে আর সেই সমস্ত মুরিদরাও এই সমালোচনা থেকে মুক্ত যারা শুধুমাত্র এলেম ও যিকির সংক্রান্ত কিছু দিক নির্দেশনা পাওয়ার জন্য কোন হক্কানী পীরের নিকট বাইয়াত হয়। এখানে একটি লক্ষ্যনিয় বিষয় হচ্ছে মাঠে ময়দানে শত শত পীর সাধকদের সয়লাবেও কিন্তু মুসলিম জাতীর শেষ উদ্ধার হয়নি অর্থাৎ শতকরা প্রায় ৯৫% মুসলিম (স্রষ্টার আনুগত্যেটুকো) পর্যন্ত বিসর্জন দিয়েছে, পীর সাধকদের সংস্কার কার্যক্রম মুসলিম সমাজকে কিছুটা প্রভাবিত করলেও সামগ্রিক বিচারে এর ইতিবাচক প্রভাব খুবই নগণ্য। বস্তুত ধর্মিয় অনুশাসন বর্জন করে মুসলিম জাতী চারটি মৌলিক বস্তু হারিয়েছে ১. ইসলামী খেলাফত ধরনী থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। ২. অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আগ্রসন সহ বিভিন্নভাবে পরাশক্তিগুলোর নিকট যিম্মি হয়ে পড়েছে। ৩। তারা তাদের আধ্বাতি্বক সত্বা হারিয়েছে। ৪. মুসলিম ভ্রাতৃত্ব বিনষ্ট হয়েছে। এই চারটি ছাড়াও মুসলিম জাতী আরও বহুমুখি পার্থিব ও অপার্থিব ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে, এই সমস্ত বিষয় উল্লেখ করে আলোচনা দির্ঘায়িত করা এখানে উদ্দেশ্য নয়, মুলত এই আলোচনার উদ্দেশ্য ধর্মিয় জ্ঞান অর্জনের বিষয়টি মুসলিমদের হৃদয়ঙ্গম করানো, উপরোক্ত আলোচনায় মুসলিম দুনিয়ায় যে চারটি বড় দুর্ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে বস্তুত ওহীর জ্ঞান থেকে মুসলিম জাতীর মানুসিক ও নৈতিক বিচ্ছিন্নতাই ছিল সবচেয়ে বেশি দায়ী।
ইসলাম যেহেতু কালোর্ত্তিণ ধর্ম তাই সে জানে সময়ের বিবর্তনে কখন কোন রোগ মুসলিম উম্মাহর অন্তরজগতে প্রবেশ করবে তাই ওহীর জ্ঞান থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লক্ষ্য করে ছিল তার আগাম সতর্কবাণী ! এরশাদ হচ্ছে “তোমরা কি কুরআনের শিক্ষামালার প্রতি দৃষ্টিপাত করবে না, নাকি তোমাদের অন্তর তালাবদ্ধ। পবিত্র কুরআনের উপর যে সমস্ত ভাই সামান্যতম জ্ঞান রাখেন তারা হয়ত উপলদ্ধি করতে পারবেন এই আয়াতে তালাবদ্ধ বা মোহর শব্দটি বিভিন্ন জায়গায় কাফেরদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে যেমন সুরা বাক্কারায় এরশাদ হয়েছে ”তাদের হৃদয়ে কানে মোহর মেরে দেওয়া হয়েছে আর তাদের দৃষ্টিকে ঢেকে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে অত্যান্ত কঠিন শাস্তী। আল্লাহ তায়ালা যেন বুঝাতে চাচ্ছেন ক্রমাগত কুফরী করার কারনে কাফেরদের অন্তর যেমন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ঠিক তেমনিভাবে কুরআনের মত বৃহত্তম নেয়ামত পেয়েও যে জাতী তার শিক্ষামালা জানার চেষ্টা করছে না তাদের হৃদয়টাও তদ্রপ কঠিন হয়ে আছে। কেহ একে স্পর্শই করছে না ! কেহ করছে শুধু তেলাওয়াত করতে যদিও এই মহান গ্রন্থ শুধু তেলাওয়াত করলেও বহুমুখি কল্যান লাভ করা যায়।
সন্দেহ নেই যে আলেম উলামা ও পীর মাশায়েখগন এর শিক্ষামালার প্রতি অনেকটাই দৃষ্টিপাত করছেন। আর অধ্যায়ন করছেন অমুসলিম সমপ্রদায়ের একটি অংশ এবং বহু অমুসলিম বিজ্ঞানী। বস্তুত প্রাশ্চাত্যে এখন যে সমস্ত শিক্ষিত তরুন তরুনী ইসলাম গ্রহন করছে তারা ইসলামকে গভিরভাবে জেনে বুঝে তারপর ইসলাম গ্রহন করছে। পূর্বে যুগে যেমন ধর্ম প্রচারকদের কয়েকটি কথায় মোটিভেটেড হয়ে মানুষ ধর্মান্তরিত হত এখনের অবস্থা সেরকম নয় শুধু নিরক্ষর লোক ব্যতিত। কারন বর্তমান যুগ জ্ঞান বিপ্লবের যুগ, আর কেনইবা একবিংশ শতাব্দির শিক্ষিত সমাজ যাচাই বাচাই না করে অন্য জীবন দর্শনের দিকে অগ্রসর হবে। তথ্য ও জ্ঞান বিপ্লবের এই যুগে অবস্থান করেও কিন্তু মুসলিমজাতীর একটি বিরাট অংশ যার হার শতকরা প্রায় ৯৮ ভাগ আল কুরআনের মত এক মহা বিষ্ময়কর ও বিজ্ঞানময় গ্রন্থ পেয়েও এর সামগ্রিক শিক্ষামালার সঙ্গে পরিচিত হতে পারেনি। ইসলামী চিন্তাবিদগন বলেছেন পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহর প্রায় পাচ শতাধিক শুধু আদেশ নিষেধই রয়েছে ! মহান রবের কয়টি আদেশ নিষেধ আমরা জানি ? এগুলো জানা কি মুসলিম জাতীর জন্য অপরিহার্য ছিলনা ?
অপ্রিয় হলেও সত্যে আলেমগন এক্ষেত্রে অনেকটাই দায়ী কারন এগুলো আলেমগনের নিরবতা ফল। তারা নিজেরা একেকজন কুরআন হাদিসের পন্ডিত হলেও এর প্রত্যেকটি বিধান মুসলিম জনসাধারণকে খুলে খুলে প্রকাশ করছে না ! আর যদি কেহ বলেও থাকে তবে সেখানেও আলোচনায় অনেক সীমাবদ্ধতা থাকে। সম্মানিত খতিবগনকে জুম্মার খুতবায় দৃয়তার সঙ্গে কুরআন অধ্যায়নের গুরত্ব তুলে ধরতে দেখাই যায়না এবং কোন তাফসীরগুলো বাংলায় অনুবাদ হয়েছে সেগুলোর নামও তারা মুসলি্লদেরকে বলেনা। কুরআনের প্রত্যেকটি আদেশ নিষেধ জানার জন্য কুরআন অধ্যায়ন করা যে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অত্যান্ত জরুরি একথা তারা বলছে না ! এখানে কোন রহস্য লুকিয়ে আছে আল্লাহপাকই ভাল জানেন। পীর মাশায়েখগনও আন্তরিকতার সঙ্গে মুরিদদের কুরআন অধ্যায়ন করতে বলেনা এবং এর কোন রূপরেখাও পেশ করেনা, তারা শুধু মুরিদদের কিছু যিকির শিক্ষা দেয় যেন তার যিকির করতে পারে। সাপ্তাহিক জুম্মার খুতবায় বিভিন্ন টপিঙ্ এর আলোকে যে সমস্ত খুতবা প্রদান করা হয় সেগুলোর যেমন প্রয়োজন আছে ঠিক তেমনিভাবে পীরগন মুরিদদের কুরআন হাদিসের আলোকে যে সমস্ত যিকির শিক্ষা দেয় সেগুলোরও প্রয়োজন আছে, তবে এখানেও আক্ষেপ বিষয় যে, মুসলিম জাহানে অল্প সংখ্যক পীরই আছেন যারা কুরআন হাদিস থেকে মুরিদদের যিকির শিক্ষা দেন, নানান বেদাতের এখানেও সমাহার। যিকিরের এমন কিছু নিয়ম তারা মুরিদদের শিক্ষা দেয় কুরআন হাদিসে যার কোন ভিত্তি নেই ! এমনকি সাহাবী তাবেয়ী বা তাবে তাবেয়ীনদের আমলেও এগুলো দেখা যায় না ! কোথায় যাবেন ?
জেনে রাখা ভাল নব আবিস্কৃত সমস্ত আমল বেদাত যদিও সেই সমস্ত আমল বড় বড় বুজুর্গদের মধ্যে দেখা যায়। তাবলীগ জামাতে যারা সমপৃক্ত তারাও কুরআনের তাফসীর পড়েনা, বুখারী বা মুসলিম কিছুই পড়েনা এবং এগুলো অধ্যায়ন করার প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করেনা ! অথচ এই দুইটি বস্তুই হল (কুরআন ও হাদিস) মুসলিম জাতীর সর্বশ্রেষ্ট নেয়ামত। তাদের চিন্তা চেতণা সীমাবদ্ধ হয়েছে ফাযায়েলে আমল ও ফাযায়েলে সাদাকাতের ভিতর ! তাদের এই দুইটি কিতাবে ভাল ছাড়া মন্দ কিছু নেই কিন্তু আমার প্রশ্ন ইসলামী জীবন ব্যবস্থা কি এই দুইটি কিতাবে সীমাবদ্ধ ? তাদেরকে কুরআন ও হাদিস অধ্যায়ন করতে বললে তারা বলে উঠে এগুলো বুঝবে আলেমগন ! আমরা সাধারন মানুষ আমরা কুরআন বুঝব না ! আমরা তাদের কাছ থেকে কিছু জানার থাকলে জেনে নিব ! বস্তুত ইহা এক প্রকার মানুসিক সংকির্নতা ব্যতিত আর কিছুই নয় কারন পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে ”আমি কুরআনকে অনুধাবন করার জন্য সহজ করেছি অতএব তোমাদের মধ্যে এমন কোন চিন্তাশীল আছে কি” উক্ত আয়াতে কিন্তু শুধু আলেমগনের দিকে ইঙ্গিত করা হয়নি বরং অক্ষর জ্ঞান আছে এমন সকলের জন্য কুরআন সহজ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আপনি যদি নবী মোহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহিস সালামের পবিত্র জীবন দর্শনের দিকে একটু দৃষ্টিকে প্রসারিত করেন তা হলে দেখতে পাবেন মক্কি যিন্দেগীর তের বৎসর তিনি সাহাবীদের ঈমানী চেতণা শিক্ষা দান করেছেন, এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল তাওহিদ, রেসালাত, আখেরাত ইত্যাদির তাৎপর্য শিক্ষা দান করা, এছাড়াও আরও কতিপয় বিষয় এই বৈপ্লবিক কর্মসূচির অন্তভর্ুক্ত ছিল যেমন নৈতিক অনূভুতি, চারিত্রিক দৃয়তা, মানবিক মুল্যেবোধ, অন্তদৃষ্টি অর্জন, পাপ বর্জন, গোপনে স্রষ্টার স্বরণ, বিপদে ঈমানের পথে অটল থাকা ইত্যাদি।
মহানবীর সেই প্রশিক্ষন যে কত বরকমময়, কত তাৎপর্যময় ও কত হেকমতপূর্ন ছিল সেটা একমাত্র সাহাবীগন ব্যতিত আর কেহই বলতে পারবে না অতপর মাদানী জিন্দেগীতে এমন দিন বা রাত খুব কমই অতিবাহিত হয়েছে যে দিন বা যে রাতে মহানবী সাহাবীগনকে কুরআনের ব্যক্ষা বিশ্লেসন বা কুরআনের তাফসীর শিক্ষাদান করেননি ! নবী মোহাম্মদের বরকতময় প্রশিক্ষনে প্রায় সমস্ত সাহাবী আলেমের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছিলেন, কোন সাহাবী এমন নেই কুরআন সুন্নাহের উপর যার গভির জ্ঞান ছিলনা ! ”আমার আনীত দ্বীন বা শিক্ষামালা তোমরা অন্যের কাছে পৌছে দাও” মহানবীর (সাঃ) এর বিদায় হজ্জের এই ভাষনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নিজের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না করে ব্যবসা বাণিজ্যে ঘর বাড়ি উপেক্ষা করে প্রায় সমস্ত সাহাবী প্রত্যেক জনপদে গিয়ে গিয়ে মানুষকে দ্বীন ইসলামের দিকে আহবান জানিয়েছে, যারা এই আহবানে সাড়া দিয়েছে তাদেরকে তারা বস্তগত স্বার্থ ব্যতিরেকে ইসলামের বুনিয়াদী আহকাম সমুহ শিক্ষাদান করেছে। যদি তারা আমাদের মত অজ্ঞ মুসলিম হত তা হলে কোন অবস্থাতেই তারা বিশ্বস্রষ্টার প্রতিনিধিত্বের এই মহান দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হতনা আর তারা এই দায়িত্ব পালন না করলে মানুষ যেমন ইসলাম গ্রহন করতনা ফলে সমগ্র পৃথিবী আবারও জাহেলিয়াতের তিমীর অন্ধকারে হারিয়ে যেত। আর সাহাবীদের মধ্যে এই দায়িত্ববোধ জন্ম লাভ করেছে কুরআন অধ্যায়ন থেকে, তারা রাত জেগে জেগে কুরআন অধ্যায়ন করতেন এবং স্রষ্টার এবাদতে রত থাকতেন এবং দিবষে মানুষের নিকট এই হক্কেও দাওয়াত পৌছিয়ে দিতেন। মুলত তাদের সামগ্রিক জীবনের চিত্রই এমন ছিল।
কুরআনের মর্মবাণী যেন মানুষ অনুধাবন করে এক্ষেত্রে পবিত্র কুরআনে অত্যান্ত সুষ্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, এরশাদ হয়েছে ”এক কল্যানময় কিতাব ইহা আমি তোমার প্রতি অবতির্ণ করেছি যেন মানুষ ইহার আয়াত সমুহ অনুধাবন করে আর বোধশক্তিসম্পন্ন লোকেরাই কুরআন থেকে উপদেশ গ্রহন করে থাকে” আমার দৃয় বিশ্বাস এই আলোচনা থেকে আপনি কুরআন ও হাদিসের জ্ঞান অর্জনের গুরত্ব অনেকটাই অনুধাবন করতে পেরেছেন এখন যদি আপনি সিন্ধান্ত নিয়ে থাকেন প্রতিদিন কিছু সময় নির্ধারন করে কুরআন তাফসীর ও সহীহ হাদিস অধ্যায়ন করে একজন অন্তরদৃষ্টি সম্পন্ন মানুষে পরিনত হবেন তা হলে তিন জায়গা থেকে বাধা আসবে ১. নফস ! ২. শয়তান ! ৩. অভিবাবক। অদৃশ্য ইঙ্গিতে নফস আপনাকে বলবে কুরআন অধ্যায়নে সময় নষ্ট না করে ঘুমিয়ে থাকা ভাল অর্থাৎ সে অলসতার দিকে ধাবিত করবে। অদৃশ্য ইঙ্গিতে শয়তান বলবে কুরআন অধ্যায়নে কিছুই লাভ হবেনা বরং তুমি অমুক অমুক কাজটি কর সেখান থেকে তোমার বস্তুগত উন্নতি হবে ইত্যাদি, অভিবাবক হয়ত বলবে এগুলো এখন নয় সামনে তোমার পরীক্ষা, এগুলো পরীক্ষার পরেও দেখা যাবে ইত্যাদি, অভিবাবক হয়ত কল্যানের জন্যই বলবে কিন্তু এই উপদেশে সন্তান ও মুসলিম সমাজের জন্য অনেক বড় বড় ফেতনা ও ক্ষতি লুকিয়ে আছে একমাত্র অন্তরদৃষ্টি সম্পন্ন লোকেরাই এই সমস্ত ফেতনার ভয়াবহতা উপলদ্ধি করে থাকে। মুসলিম শরিফের এলেম অধ্যায়ে মহানবীর একটি সর্তকবাণী রয়েছে এভাবে ”কেয়ামতের অন্যতম একটি আলামত হবে মানুষের এলেম কমে যাওয়া” সম্মানিত চিন্তাশীল পাঠক উক্ত বাণীতে লক্ষ্য করে দেখুন দ্বীন ইসলামের ক্ষেত্রে অজ্ঞতাকে মহাবিশ্বের বিপর্যয়ের অন্যতম একটি কারন উল্লেখ করা হয়েছে। মহানবীর এই ভয়ংকর সতর্কবানী সেই সমস্ত চিন্তাশীল সমপ্রদায়ের জন্য যারা ওহীর জ্ঞান অর্জন করে অতপর স্রষ্টার নির্দেশিত পথে নিজেকে এবং নিজেদের পরিবারবর্গকে পরিচালিত করে নূতন করে মুসলিম সমাজে আদর্শিক ভিত্তি রচনা করতে চায়।
এখন যদি আপনি ওহীর জ্ঞান অর্জনের সিন্ধান্ত নিয়ে থাকেন আর এক্ষেত্রে আমাকে যদি প্রশ্ন করেন ইসলামী জীবন ব্যবস্থার উপর মুটামুটি একটি ভাল ধারণা অর্জন করতে হলে কোন গ্রন্থগুলো অধ্যায়ন করতে হবে ? প্রথমত আপনাকে একটি নির্ভরযোগ্য তাফসীর অধ্যায়ন করতে হবে, বর্তমানে অনেক তাফসীর বাংলা হয়েছে যেমন ইবনে কাছীর, ইবনে জারির তাবারী, ফী যিলালিল কুরআন, মাআরেফুল কুরআন, নুরুল কুরআন এবং তাফহীম। (তাফহীম নিয়ে কিছুটা বিতর্ক আছে) সঙ্গে অধ্যায়ন করতে হবে বুখারী শরিফের ব্যক্ষা ”ফাতহুল বারী” সরাসটি বুখারী না পড়ে ফাতহুল বারী এজন্য উল্লেখ করলাম সহীহ হাদিস সমুহ অধ্যায়ন করার সময় একই বিষয়ে একাধিক হাদিস দেখে মনের ভিতর নানান প্রশ্ন আসতে থাকবে এক্ষেত্রে হাদিসের ভাষ্য বুঝতে না পারলে আপনাকে দৌড়াতে হবে আলেমদের কাছে। আপাতত এই দুইটি রত্ন সংগ্রহ করলে অনেকদূর এগুতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। এটা সংগ্রহ করতে না পারলে রিয়াদুস সালেহীন আপনার জন্য যথেষ্ট হবে কারন রিয়াদুস সালেহীন সর্বশেষ্ট হাদিসের কিতাব। হয়ত কেহ কেহ ভাবছেন বই ক্রয় করার সময় কোথায়। আর কোথায় এগুলো পাওয়া যাবে কত টাকা লাগবে। মুলত একটি তাফসীর সেট ক্রয় করতে তিন থেকে চার হাজার টাকা আপনাকে গুনতে হবে আর ফতহুল বারীও প্রায় একই দাম হবে তবে চিন্তার কিছু নেই বর্তমান সময়ে অনেক ইসলামী ওয়েবসাইট প্রতিষ্টা হয়েছে যেখান থেকে তাফসীর হাদিস ও ইসলামী সাহিত্য সমুহ ফ্রি ডাউনলোড করতে পারেন। কোথায় পেতেন এই জ্ঞানের ভান্ডার ? এই সমস্ত সাইট না প্রতিষ্টা হলে আপনাকে হাজার হাজার টাকা সংগ্রহ করে সময় কুরবানী করে ট্রাফিক জাম উপেক্ষা করে আপনাকে যেতে হতো বাংলাবাজার ! তারপরও কি সমস্ত বই খুজে বের করা সম্ভবপর ছিল ? ধৈর্য নিয়ে আমার মত একজন নগন্য লোকের আর্টিক্যলটি পড়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। মহান আল্লাহ সবাইকে সঠিক বিষয়টি হৃদয়ঙ্গম করার তওফিক দান করুন। আমিন। উক্ত প্রবন্ধে কোন ভুল হয়ে থাকলে বিচক্ষন দৃষ্টির কাছে আমার চিন্তা সত্বাকে সমর্পন করছি।
কেন ইসলামী জ্ঞান অর্জন করবেন ?
স্রষ্টার আদেশ সমুহ জেনে সেগুলো ব্যক্তি জীবনে আমল করার জন্য।
স্রষ্টার নিষিদ্ধ কর্মসমুহ জেনে সেগুলো বর্জন করার জন্য।
পরিবারবর্গকে সতর্ক করার জন্য।
প্রতিবেশিকে সতর্ক করার জন্য।
বন্ধু মহলকে সতর্ক করার জন্য।
আত্বীয় স্বজনকে সতর্ক করার জন্য।
শাসক গোষ্টিকে সতর্ক করার জন্য।
অমুসলিম সমপ্রদায়কে সতর্ক করার জন্য

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s